শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন | বিস্তারিত জেনে নিন

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৫ | আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৫

প্রধান পরিবর্তনগুলি:

  • সৃজনশীল প্রশ্নের পাশাপাশি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে
  • পরীক্ষার সময় কমানো হচ্ছে
  • নম্বর বণ্টন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে
  • প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে

নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যে পরিবর্তনগুলি আসছে:

বিষয় বর্তমান ব্যবস্থা নতুন ব্যবস্থা
পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা ২ ঘণ্টা
প্রশ্নের ধরন শুধু সৃজনশীল সৃজনশীল + MCQ
নম্বর বণ্টন ১০০ ৫০+৫০
প্র্যাক্টিক্যাল ২৫ ৫০

পরিবর্তনের কারণ

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ:

  • শিক্ষার্থীদের যথার্থ মূল্যায়ন
  • পরীক্ষার চাপ কমানো
  • আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য
  • প্র্যাক্টিক্যাল জ্ঞানের গুরুত্ব বৃদ্ধি

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য মডেল টেস্ট এবং প্র্যাকটিস বই প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত মূল্যায়ন পদ্ধতি

নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হবে:

মূল্যায়নের ক্ষেত্রসমূহ:

  • তাত্ত্বিক জ্ঞান (৪০%)
  • প্র্যাক্টিক্যাল দক্ষতা (৩০%)
  • বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা (২০%)
  • সৃজনশীলতা (১০%)

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি

নতুন পদ্ধতিতে সফল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যে প্রস্তুতি নিতে হবে:

  • নিয়মিত অনুশীলন
  • প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি
  • মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ
  • বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

শিক্ষকদের ভূমিকা

নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে:

  • নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী পাঠদান
  • প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস পরিচালনা
  • মূল্যায়ন পদ্ধতি আয়ত্ত করা
  • শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান

অভিভাবকদের করণীয়

অভিভাবকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো
  • নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদান
  • প্র্যাক্টিক্যাল কাজে সহযোগিতা
  • প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ

উপসংহার

নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীদের প্র্যাক্টিক্যাল জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রথম আলো